যে ১০ ব্যক্তির ওপর রাসুলের অ’ভিশাপ

মুফতি ইবরাহিম সুলতান : সব পাপই ঘৃণিত। কিন্তু কিছু পাপ খুবই নিন্দনীয়, যা অন্যেরও ক্ষতির কারণ হয়। কলুষিত সেসব পাপ ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই ওই পাপীদের ওপর আল্লাহ তাআলার অসন্তুষ্টির পাশাপাশি রাসুল (সা.)-এর অ’ভিশাপও পতিত হয়। এখানে এমন ১০টি পাপের কথা উল্লেখ করা হলো, যেসব পাপে রাসুল (সা.) অ’ভিশাপ দিয়েছেন।

যে অন্যকে অ’স্ত্র তাক করে ভ’য় দেখায় : অন্যায়ভাবে বা দুষ্টুমি করে কারো দিকে ধারালো অ’স্ত্র তাক করে ভ’য় দেখানো, এটা শরিয়তে চরমভাবে নিষিদ্ধ। যারা এ কাজে লিপ্ত আল্লাহর রাসুল (সা.) তাদের ওপর অ’ভিসম্পাত করেছেন। তাবেয়ি ইবনে সিরিন (রহ.) বলেন, আমি আবু হুরায়রা (রা.)-কে বলতে শুনেছি, নবীজি (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের প্রতি (লৌহ নির্মিত) মা’রণাস্ত্র দ্বারা ইঙ্গিত করে সে তা পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত ফেরেশতারা তাকে অ’ভিসম্পাত করতে থাকে, যদিও সে তার আপন ভাই হয়। (মু’সলিম, হাদিস : ৬৫৬০)

যে মা’দক কারবার করে : আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন, ম’দের সঙ্গে সম্পৃক্ত ১০ শ্রেণির লোককে রাসুলুল্লাহ (সা.) অ’ভিসম্পাত করেছেন। এরা হলো, ম’দ তৈরিকারক, ম’দের ফরমায়েশকারী, ম’দ পানকারী, ম’দ বহনকারী, যার জন্য ম’দ বহন করা হয়, ম’দ পরিবেশনকারী, ম’দ বিক্রেতা, এর মূল্য ভোগকারী, ম’দ ক্রেতা এবং যার জন্য ম’দ ক্রয় করা হয়। (তিরমিজি, হাদিস : ১২৯৫)

সুদের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি : যারা সুদের কারবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত তাদের প্রত্যেকের ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অ’ভিশাপের ঘোষণা এসেছে। জাবির (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) লানত করেছেন সুদখোরের ওপর, সুদদাতার ওপর, এর লেখকের ওপর ও তার সাক্ষী দুজনের ওপর। তিনি বলেছেন, এরা সবাই সমান। (মু’সলিম, হাদিস : ৩৯৮৫)

যে স্ত্রী’ স্বামীর বিছানায় সাড়া দেয় না : আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, কোনো লোক যদি নিজ স্ত্রী’কে নিজ বিছানায় আসতে ডাকে আর সে কোনো ওজর ছাড়া তা অস্বীকার করে এবং সে ব্যক্তি স্ত্রী’র ওপর দুঃখ নিয়ে রাত্রি যাপন করে, তাহলে ফেরেশতারা এমন স্ত্রী’র ওপর সকাল পর্যন্ত লানত দিতে থাকে। (বুখারি, হাদিস : ৩২৩৭)

তালাক দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিবাহ করা : আমিরুল মুমিনিন আলী (রা.) থেকে এ প্রসঙ্গে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, নবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি তালাক দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিবাহ করে, সে এবং যে স্বামী তালাক দেওয়ার পর পুনরায় গ্রহণের ইচ্ছায় তাকে অন্যের নিকট বিবাহ দিয়ে তার জন্য হালাল করে নেয়, তারা উভ’য়ে অ’ভিশপ্ত। (আবু দাউদ, হাদিস : ২০৭৬)

পবিত্র ম’দিনায় পাপ কাজ করা : তাবেয়ি আসিম (রহ.) থেকে বলেন, আমি আনাস ইবনে মালিক (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসুলুল্লাহ (সা.) কি ম’দিনাকে হারাম করেছেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ, এখান থেকে ওখানের মধ্যবর্তী স্থান। অ’তএব যে ব্যক্তি এখানে কোনো পাপ করে, তা খুবই ভ’য়ংকর ব্যাপার। যে এখানে কোনো পাপ করে তার ওপর আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতা ও সমগ্র মানবজাতির লানত। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তার ফরজ অথবা নফল কোনো ইবাদত কবুল করবেন না। (মু’সলিম, হাদিস : ৩২১৪)

মাতা-পিতাকে লানত করা : আবু তুফায়ল আমির ইবনে ওয়াসিলাহ (রহ.) বলেন, আমি আলী ইবনে আবি তালিব (রা.)-এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বলল, নবী (সা.) আপনাকে আড়ালে কী’ বলেছিলেন? বর্ণনাকারী বলেন, তিনি রেগে গেলেন এবং বলেন, নবী (সা.) লোকদের কাছ থেকে গো’পন রেখে আমা’র নিকট একান্তে কিছু বলেননি। তবে তিনি আমাকে চারটি (বিশেষ শিক্ষণীয়) কথা বলেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর লোকটি বলল, হে আমিরুল মুমিনিন! সে চারটি কথা কী’? তিনি বলেন—১. যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতাকে অ’ভিসম্পাত করে, আল্লাহ তাকে অ’ভিসম্পাত করেন, ২. যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া ভিন্ন কারো নামে পশু জবাই করে আল্লাহ তার ওপরও অ’ভিসম্পাত করেন, ৩. ওই ব্যক্তির ওপরও আল্লাহ অ’ভিসম্পাত করেন, যে কোনো বিদাতি লোককে আশ্রয় দেয় এবং ৪. যে ব্যক্তি জমিনের (সীমানার) চিহ্নসমূহ অন্যায়ভাবে পরিবর্তন করে, তার ওপরও আল্লাহ অ’ভিসম্পাত করেন। (মু’সলিম, হাদিস : ৫০১৮)

Author: hasib

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *