জামাত সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন মাওলানা মামুনুল হক

জামাতে ইসলাম সম্পর্কে আমার বক্তব্য সুস্পষ্ট। এর আগেও আমি তাদেরকে নসিহা হিসেবে তাদের মতাদর্শ থেকে ফিরে আসতে বলেছি, এখনও বলবো, তারা যদি দুটি বিষয় সমাধান করেন, তাহলে তাদের সম্পর্কে আমাদের চিন্তাধারণা পাল্টে যাবে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে ফেসবুক লাইভে এসে জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসার শাইখুল হাদিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নস মহাসচিব, মরহুম শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক রহ. এর সাহেবজাদা, হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশের নতুন কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে শুধু আমি নয়,সারা দেশের মানুষ উদ্বিগ্ন। আমারা যেনো সম্মিলিত কোনো সিদ্ধান্ত পৌঁছতে পারি। সে বিষয়ে আজ কথা বলবো। তিনি বর্তমান সময়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ওয়াজ মাহফিলের বাধা নিয়ে বলেন, সারা দেশেই ওয়াজ মাহফিলের উপর বাধা বিপত্তি আসছে। প্রতিনিয়তই বাধা আসছে। এর কয়েকটি কারণই আমরা লক্ষ্য করছি। এর মধ্যে বিশেষভাবে করোনার দোহাই দিয়ে মাহফিল স্থগিত করছে প্রশাসন। এরকম কিছু বিষয় আমাদের কাছে আসছে। এছাড়াও ব্যক্তি বিশেষ কিছু মানুষের জন্য প্রশাসন কড়াকড়ি করছেন। এরমধ্যে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর কয়েকটি মাহফিলই বাধা দেয়া হয়েছে। আমারও কয়েকটি মাহফিল বন্ধ করার বিষয়ে প্রশসন তৎপর রয়েছে। কিন্তু কী জন্য বন্ধ করছে এর কারণ আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়। আমার মনে হয়, প্রশাসনে কিছু মানুষ ঠুনকো কিছু অজুহাতে আমাদের উপর বিধি নিষেধ আরোপের ব্যাপারে সোচ্চার রয়েছে। অমূলক ধারণা বলা যাবে না যদি আমরা বলি, যে এটি একটি গভীর ষড়যন্ত্রের বহিপ্রকাশ। ভিতর বাহির মিলিয়ে আমরা একটা ষড়যন্ত্রের আভাস পাচ্ছি। এগুলো নিয়ে একটু আলোচনা ও প্রর্যালোচনার দাবি রাখে।

আরেকটি বিষয়, আমার রাজনৈতিক অবস্থান, পারিবারিক অবস্থান নিয়ে অনেককে মিথ্যাচারে লিপ্ত দেখতে পাচ্ছি। মনে করি এসব ষড়যন্ত্রের মূল এক জায়গাতেই। এসব বিষয়ে আমার বক্তব্য স্পষ্ট করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

বর্তমান সময়ের সরকারের মাঝে একটা প্রবণতা আমরা দেখতে পাই, যখনই কাউকে কোনোভাবে হয়রানী করতে চায়, কারো বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক কিছু বাস্তবায়ন করতে চায়, তখন তারা জামাত শিবিরের ট্যাগ লাগিয়ে দেয়। বিষয়টা হলো এমন, যখনই জামাত শিবির ট্যাগ কারো উপর লেগে যায়, তখন তার বিরুদ্ধে একশন নেয়া বৈধতায় পরিণত হয়ে যায়। এ যে একটা কৌশল, আমি এটাকে অপকৌশলই বলি। এর থেকে দেশে অনেক বড় বড় দুর্ঘটনার জন্ম হয়েছে। আমরা জানি বাংলাদেশে মেধাবি ছাত্র আবরার ফাহাদের অবস্থা। আমরা দেখেছি তাকে কিভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, তার উপর জামাত ট্যাগ লাগিয়ে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে।

আমার বিরুদ্ধেও এমন একটি প্রচারণা চালাচ্ছে একটি গ্রুপ। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট কিছু তথ্য প্রচার করছে। অথচ সেগুলো সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমাকে গায়েল করার অভ্যাহত প্রচেষ্টা করে যাচ্ছে বিভিন্নভাবে। জামাত শিবিরের রাজনীতি নিয়ে আমার সম্পৃক্ততার বিষয়ে মিথ্যাচার করে যাচ্ছে। অথচ আমার পূর্ব পুরুষ শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হকের রাজনৈতিক আইডলিজির উপর আছি আমি। আমি আজকেও আবার শিবির সম্পর্কে আমার অবস্থান স্পষ্ট করছি। আমি ইসলামি রাজনীতির একজন কর্মী।

আল্লাহর জমিনে আল্লাহর বিধান বাস্তবায়ন তথা আল্লাহর জমিনে আল্লাহর খেলাফত বাস্তায়ন করার জন্য আমার জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা করে যাবো। আমার রাজনৈতিক দর্শন সম্পর্কে যদি কেউ প্রশ্ন করে আপনার রাজনৈতিক দর্শন কি ছিলো? আমি স্পষ্ট করে বলবো, আমার পূর্ব পূরুষ আল্লামা আজিজুল হক রহ. এর রাজনৈতিক দর্শনই আমার রাজনৈতিক দর্শন। আল্লামা ফরীদপুরী রহ. মোহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জি হুজুর রহ. এর রাজনৈতিক দর্শনই আমার রাজনৈতিক দর্শন। আমাদের পূর্ব পুরুষ, আল্লামা আতহারী রহ. শামসুল হক ফরীদপুরী রহ. ইতিপূর্বে আল্লাহর জমিনে ইসলামী হুকুমত বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে আমাদের মতদর্শের সঙ্গে একমত নয় এমন অনেক দলের সাথেই গিয়েছিলেন, এগুলোকে আমি কখনোই সমালোচনার বিষয় বলে মনে করি না।

আমার বক্তব্য আমি একাধিকবার স্পষ্ট করেছি। জামাতে ইসলামী একটি রানৈতিক সংগঠন, ইসলামের ক্ষেত্রেও তাদের একটি ভিন্ন আইডলজি রয়েছে। মরহুম আবুল আলা মওদুদিকে তারা ফলো করে থাকে। সাংগঠনিকভাবে তারা আরো অনেক চিন্তা আদর্শ লালন করে থাকে। আমি বলেছি, বাংলাদেশের মধ্যে ইসলামী দল যতগুলো রয়েছে, তারা যদি কখনো ঐক্যের মঞ্চে ডাক দেন, যেমন জামাতে ইসলামী আছে, সালাফি, আহলে হাদীস, বেরলভী সব ধরণের দল যদি ঐক্য চায় আমিও তাদের কাছে যাবো। যেমন পাকিস্তানে মাওলানা ফজলুর রহমান মুত্তাহেদা মজলিসে আমাল নামের দলের মাধ্যমে ইসলামকে ভালোবাসে এমন দলগুলোকে নিয়ে শক্তিশালী একটি ঐক্য গঠনে সফল হয়েছে। বাংলাদেশে যদি এমন কোনো প্লাটফর্ম তৈরি হয় তাহলে, আমারও সেখানে অংশগ্রহণ থাকবে।

জামাতে ইসলাম সম্পর্কে আমার বক্তব্য সুস্পষ্ট। এর আগেও আমি এগুলো নসিহা হিসেবে বলেছি। এখনও বলবো, তারা যদি দুটি বিষয় সমাধান করেন, তাহলে তাদের সম্পর্কে আমাদের চিন্তাধারণা পাল্টে যাবে।

একটি হলো, তারা মাওলানা মওদুদি সাহেবের অনুসরণ করেন, মওদুদি সাহেবের যে বক্তব্যগুলো উলামায়ে কেরাম ভুল বলেছেন, সেগুলো যদি প্রত্যখ্যান করেন তাহলে, আলেমদের সাথে তাদের যে অবস্থানগত মতপার্থক্য আছে সেটা পূণমূল্যায়িত হবে।

আরেকটি হলো, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তাদের অবস্থান নিয়ে দেশের মানুষের যে ধারণা এটি যদি সঠিক হয়, তাহলে তারা সেই চেতনা থেকে ফিরে ক্ষমা চেয়ে নিলেই তাদের সম্পর্কে আমাদের নেতিবাচক ধারণা পাল্টাবে।

আমার স্পষ্ট বক্তেব্যের পরও একটি মহল আমার বিরুদ্ধে শত্রুরা করে প্রশাসনসহ বিভিন্ন জায়গায় প্রচারণা চালাচ্ছে। তাদের সে মিথ্যা বানোয়াট রটনার নিন্দা জানানোর ভাষা আমার নেই। এমনকি আমার বাবাকে নিয়েও মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমার শশুর সম্পর্কেও মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন কিছু আলেমসহ অনেকে। আমার শশুর নাকি জামাতের রুকন ছিলেন, অথচ তিনি এ পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই।

Author: hasib

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *