ভাস্কর্য ও মূর্তির অপব্যাখ্যাকারীরা হক্কানী আলেম হতে পারে না: আল্লামা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী

বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন আমীর আল্লামা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী ও মহাসচিব মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী বলেছেন, ইসলামে ছবির ব্যপারে শরঈ হুকুম হলো শরিয়ত সম্মত ওজর ছাড়া ছবি তোলা জায়েয নেই।

এমতাবস্থায় মানুষ বা কোন প্রানীর মূর্তি বা ভাস্কর্য তৈরী ও স্থাপন না জায়েজ হওয়ার মধ্যেও কোন সন্দেহ নেই। ইসলামের শুরু থেকে অদ্যাবধি কোন হক্কানী আলেম কখনো মূর্তির সমর্থন দিয়েছেন তার প্রমান নেই। মূর্তির বিরুদ্ধে নবী-রাসূল ও অলী-আউলিয়াগণ সংগ্রাম করে গেছেন।

যে বা যারা মূর্তির বৈধতা দেওয়ার অপচেষ্টায় বিভিন্ন অপব্যখ্যা দিচ্ছে তারা হক্কানী আলেম হতে পারে না। সোমবার (২৩ নভেম্বর) সংবাদমাধ্যমে প্রেরিত এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এসব কথা বলেন। নেতৃদ্বয় বলেন, বাংলাদেশ শতকরা ৯০ ভাগ মুসলমানদের দেশ। এ দেশকে মুর্তি ও রামরাজ্য বনানোর ষড়যন্ত্র তাওহিদী জনতা বরদাশত করবে না।

ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপন ইসলাম ও মুসলমানদের ধর্মীয় ঐতিহ্য পরিপন্থী ও বিধর্মীদের কাজ। বিজাতীয় সভ্যতা-সংস্কৃতি চাপিয়ে দিলে দেশের ঈমানদার জনতা রাজপথে আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়বে।

ধর্মপ্রাণ জনতা কারো হুমকি-ধমকি আর রক্ত চক্ষুকে ভয় পায় না। ঈমান-আকিদা ও ইসলামী ঐতিহ্য রক্ষায় লাখো মু‘মিন প্রয়োজনে জীবন দিতেও প্রস্তুত রয়েছে, ইন-শা আল্লাহ। নেতৃদ্বয় ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপনের কর্মসূচি পরিহার করতে সরকারের প্রতি আহবান জানান।

আরো পড়ুন: তুর্কি বংশোদ্ভূত মুসলিম দম্পতির হাত দিয়েই করোনার প্রথম ভ্যাকসিন আবিষ্কার !

তুর্কি বংশোদ্ভূত মুসলিম দম্পতির হাত দিয়েই করোনার প্রথম ভ্যাকসিন আবিষ্কার আন্তর্জাতিক ডেস্ক : জার্মান প্রতিষ্ঠান বায়োনটেক ও মার্কিন প্রতিষ্ঠান ফাইজারের যৌথ উদ্যোগে তৈরি করোনা ভাইরাসের টিকা তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালে ৯০ শতাংশ কার্যকারিতা দেখিয়েছে৷

বায়োনটেকের প্রতিষ্ঠাতা তুরস্ক বংশোদ্ভূত এক দম্পতি৷ জার্মান শহর মাইনৎসে ১২ বছর আগে বায়োনটেকের পথচলা শুরু হয়৷ এই কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ উগুর জাহিন এবং তার স্ত্রী ইমিউনোলজিস্ট উজলেম টুরেচি৷ তারা দুইজনই তুরস্ক বংশোদ্ভূত জার্মান নাগরিক৷

এই দম্পতির তৈরি বায়োনটেকে এখন কাজ করে ১৫শ কর্মী৷ ৫৫ বছর বয়সি জাহিনের জন্ম তুরস্কে৷ বাবা-মা’র সঙ্গে একসময় জার্মানিতে চলে আসেন তিনি৷ মেডিসিন এবং গণিত নিয়ে পড়ালেখা করেন কোলোন বিশ্ববিদ্যালয়ে৷ জাহিন কোলোন এবং হামবুর্গে দীর্ঘদিন চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেছেন৷

এরপর জারল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন৷ ১৯৯২ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত একজন চিকিৎসক ও গবেষক হিসেবে সেখানে কাজ করেন৷ মলিকিউলার মেডিসিন এবং ইমিউনোলজি নিয়ে গবেষণা শুরু করেন৷

ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ব্যাপারে তিনি সবসময় আগ্রহী ছিলেন আর এ কারণেই ২০০৮ সালে বায়োনটেক প্রতিষ্ঠা করেন৷ ক্যান্সারের ওষুধ আবিষ্কারের জন্য এখানে মনোনিবেশ করেন তিনি৷ ৫৩ বছর বয়সি টুরেচির জন্ম জার্মানিতে৷ কিন্তু তার বাবা-মা তুর্কি৷

হামবুর্গে পড়ালেখা করে, সেখানেই চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেছিলেন তিনি৷ ইমিউনোলজিস্ট টুরেচি ক্যান্সার রোগীদের থেরাপি দিয়ে থাকেন৷ ২০০০ সালের জানুয়ারিতে জাহিন করোনা ভাইরাস সম্পর্কে প্রথম জানতে পারেন৷ তখনই তাঁর আশঙ্কা হয় এটি মহামারি রূপ নেবে৷

সেসময়ই ভ্যাকসিন প্রস্তুতের সিদ্ধান্ত নেন তিনি৷ জাহিন জানিয়েছেন, এই টিকার প্রতিরোধ ক্ষমতা অন্তত এক বছর স্থায়ী হবে৷ যৌথ বিবৃতিতে ফাইজারের চেয়ারম্যান ও তিনি জানিয়েছেন,

‘টিকার তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষার প্রাথমিক ফলে আমরা প্রমাণ পেয়েছি যে এটি কোভিড-১৯ প্রতিরোধ করতে পারে৷” যাদের আগে কখনও করোনা সংক্রমণ হয়নি, এমন মানুষের ওপর চালানো পরীক্ষায় দেখা গেছে যে টিকা দেয়ার পর শরীরে করোনা ভাইরাস প্রবেশ করলেও তাদের কোভিড-১৯ হয়নি৷

জুলাইয়ের শেষ থেকে শুরু হওয়া তৃতীয় পর্যায়ের এ ট্রায়ালে ৪৩ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ অংশ নিয়েছেন৷ মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা এফডিএর অনুমতির জন্য আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠান দু’টি৷

ফাইজার ও বায়োনটেক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে টিকা সরবরাহে এরই মধ্যে ১৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থের চুক্তি সই করেছে৷ চুক্তি সই হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, ক্যানাডা, জাপানের সঙ্গেও৷

২০২০ সালেই প্রতিষ্ঠান দু’টি পাঁচ কোটি ডোজ টিকা উৎপাদন করবে। ২০২১ সালে আরো ১৩০ কোটি ভ্যাকসিন উৎপাদনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ফিজার৷

সূত্র : ডয়েস ভেলে

Author: hasib

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *